চতুর্দশ অধ্যায় তৃতীয় তলা
লিন ই একবার নিজের ব্যাগের ভেতরটা দেখে নিল। সেখানে কম্প্রেসড বিস্কুট আর চকলেট ছাড়া সবকিছুই বেশ ব্যবহারিক খাদ্যপণ্য, বিপরীতে শিয়াং লান বেশিরভাগই হালকা খাবার নিয়েছে। লিন ই বলল, ‘‘আমারটা কয়েকদিন চলবে, একটু জায়গা রেখে দিচ্ছি যেন তিনতলার দৈনন্দিন ব্যবহারের জায়গা থেকে দুটো তোয়ালে আর কম্বল নেওয়া যায়।’’
শিয়াং লান বলল, ‘‘তুমি আসলেই অনেক ভেবেচিন্তে করছো, কিন্তু তিনতলায় তো এখনও জমে থাকা মৃতদের পরিষ্কার করা হয়নি, বেশ কিছু আছে। আমরা উপরে যাব কিভাবে?’’
লিন ই উত্তর দিল, ‘‘অপেক্ষা করো!’’ সে বিশ্বাস করত, অন্যরাও নিশ্চয় তার মতোই পরিকল্পনা করছে।
ঠিক যেমনটা সে ভেবেছিল, কয়েক ডজন লোক যখন প্রায় সব খাবার সংগ্রহ করে নিল, তখনই কেউ একজন প্রস্তাব দিলো তিনতলায় উঠে কিছু দৈনন্দিন সামগ্রী নিয়ে আসার জন্য। এসব জিনিস মানুষের প্রতিদিনের প্রয়োজন, তাই ছেড়ে যাওয়া যায় না।
লু ইয়ে দুইজন বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন আর চারজন শক্তিশালী পুরুষকে নিচে পাহারায় রেখে বাকিদের নিয়ে উপরে উঠে গেল। কিন্তু তারা গুলি চালাতে সাহস করল না, কারণ গুলির শব্দে ওপরে থাকা আরও মৃতরা নিচে নেমে আসতে পারে।
তারা যখন অর্ধেকটা উঠে গেছে, ঠিক তখনই তিনতলার মৃতরা, যারা এতক্ষণ ধরে মানুষের গন্ধ পেয়ে নামার রাস্তা খুঁজছিল, তারা গন্ধ ধরে দৌড়ে চলে এলো। শুধু সুপারমার্কেটের ভেতর নয়, বাইরের অন্যান্য কাউন্টারের দিক থেকেও মৃতরা ছুটে এলো, সবাই চেঁচাতে চেঁচাতে লোকগুলোর দিকে তেড়ে আসতে লাগল।
তবে এতগুলো তরুণ, বলশালী পুরুষদের মধ্যে তিনজনের বিশেষ শক্তি জেগে উঠেছে, সঙ্গে আছে সৈনিকরাও, তাদের মধ্যেও চারজন বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন। মৃতরা তাদের গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগেই একজন মাটি নিয়ন্ত্রণকারী দেয়াল তুলে দুই মিটার দূরে ঠেকিয়ে দিলো, তারপর আরেকজন কাঠজাত শক্তির অধিকারী লতা দিয়ে তাদের জড়িয়ে ফেলল। বাকিরা হাতের ভারী লোহার দন্ড, বড় ছুরি, রান্নার ছুরি, হাতুড়ি এসব দিয়ে আঘাত করতে লাগল।
প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় মৃতদের মারার অভিজ্ঞতা থাকায় সবাই বেশ ভালোভাবে একসাথে লড়ল। প্রথম দফার মৃতরা দ্রুত নিঃশেষ হলো, তারপর পরবর্তী দফা শুরু হলো।
তবে আগেই এক দফা যুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকের শক্তি খরচ হয়েছে, খাবার সংগ্রহ করার সময় একটু বিশ্রাম পেলেও পুরোপুরি ফুরিয়ে যাওয়া শক্তি ফেরত আসে না। তিনতলা চারতলার কাছাকাছি, ওপরে থাকা মৃতরা গন্ধ পেয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে না পারলেও অনেকে উপরের দিক থেকে গড়িয়ে পড়ে আসছিল, ফলে তিনতলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেল।
এক দলের পর এক দল মৃতরা আসতে থাকল, সবাই প্রাণপণ চেষ্টা করেও অবশেষে কয়েকজন অতিরিক্ত ক্লান্তিতে প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি করে বসল, আর সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসা মৃতদের নখের আঁচড়ে আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যন্ত্রনায় কাতরাতে লাগল।
এ দৃশ্য দেখে লু ইয়ে ভুরু কুঁচকাল, মনে মনে ভাবল, তার সৈন্যসংখ্যা কম, কয়েকজন বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ছাড়া অন্য সাধারণ মানুষগুলো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়, তারা যতই শক্তিশালী হোক, যুদ্ধের ছন্দ মেলাতে পারে না। এভাবে চললে ভালো হবে না। তাদের ওপর বেশি আশা করা যাবে না, তাই বাধ্য হয়ে কৌশল বদলানোর নির্দেশ দিল।
চারপাশে তাকিয়ে বলল, ‘‘প্রথমে সবাইকে সরু কোনার দিকে টেনে নিয়ে চলো, তারপর বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্নরা আটকে রাখবে, সঙ্গে কিছু বাধা বসিয়ে একে একে সেখানেই মেরে ফেলতে হবে।’’
মৃতদের আক্রমণ ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়লেও এখনো তারা অজেয় হয়ে ওঠেনি, বুদ্ধিও নেই, কেবল সংখ্যায় বেশি। তাই প্রতিরক্ষা সহজ এমন জায়গা বেছে নিলেই যুদ্ধ সহজ হয়।
নির্দেশ পেয়ে কয়েকজন সৈনিক এগিয়ে এল, সাধারণ পুরুষরাও প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে সৈন্যদের সঙ্গে তাল মেলাল। যারা আহত হয়েছে, তাদেরকে এক পাশে নিয়ে কেউ পাহারা দিতে লাগল, কেউ যদি অস্বাভাবিক আচরণ করে সাথে সাথে তাকে মেরে ফেলা হবে।