প্রথম খণ্ড: পথবাতি পিতামহ ত্রিশষ্ঠ অধ্যায়: এখনই তোমাকে গড়ে তোলার সময়!

প্রথম ডিউক ভুনা গাধার মাংস 2414শব্দ 2026-03-04 14:10:39

এডওয়ার্ড চলে যাওয়ার পর, ঝুয়ানচেন বহুক্ষণ ধরে হলঘরে একা বসে ভাবতে লাগলেন। বর্তমানে তাঁর সত্যিই লোকবলের অভাব রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক কিছুদিনে তিনি প্রায় পুরো বাইরের শহরের গ্যাংগুলো একত্রিত করেছেন, বাহ্যিকভাবে মনে হচ্ছে লোকের অভাব নেই, আসলে সবই যেন এক অস্থায়ী নাটকের দল।

ব্ল্যাকওয়াটার কোম্পানির লোকেরা—তাদের ওপর তিনি পুরোপুরি ভরসা করতে পারেন না। এখন কেবল জেসন-ই কিছুটা ব্যবহারযোগ্য; ছেলেটি পরিস্থিতি বুঝে চলে, তবে সে যেন বাতাসের দিক দেখে নিজের অবস্থান বদলাতে প্রস্তুত। হালকা হাওয়াতেই অন্য কারো ঘরে গিয়ে ভিড়ে যেতে পারে।

আফু একজন পরিচারক হিসেবে যত্নবান, তবে মাত্র এক-দুই দিন হলো তাঁর নিয়োগ, এখনই কিছু বোঝা যায় না।

মূলত, ঝুয়ানচেনের নিজের কোনো তথ্যসংগ্রহের চ্যানেল নেই, তাই তিনি ঠিকমতো খোঁজ নিতে পারছেন না—কারা তাঁর উপযুক্ত, কারা নয়। আপাতত সবচেয়ে জরুরি ব্যাপার, নিজের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। আগের দিন যখন তিনি সংঘের নেতা ছিলেন, তখনই বুঝেছিলেন—তথ্যই সবকিছু নির্ধারণ করে!

আফু ও অন্যরা এডওয়ার্ডকে চলে যেতে দেখে আবার হলঘরে ফিরে এলেন। ঝুয়ানচেনকে গভীর চিন্তায় দেখে কেউ এগিয়ে কিছু বলল না, চুপচাপ একপাশে দাঁড়িয়ে রইল।

ঝুয়ানচেন চিন্তা থেকে মুখ তুলে আফুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘আরাকাম কোথায়?’’

আফু জবাব দিলেন, ‘‘আরাকাম স্যার বাইরে তলোয়ারচর্চা করছেন।’’

ঝুয়ানচেন মাথা মালিশ করে বললেন, ‘‘বাহ, এ কেমন অধ্যবসায়! ডেকে আনো ওকে।’’

আফু আরাকামকে ডেকে আনলেন। এডওয়ার্ড যাওয়ার সময় আরাকামকে নিজের বদলি হওয়ার কথা জানাননি, তবে ওর শ্রবণশক্তি এত প্রখর যে, হলঘরের কথাবার্তা শুনেই আন্দাজ করতে পেরেছেন ঝুয়ানচেন কী বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান।

‘‘তোমার দলে কি এমন কাউকে চেনো যে সত্যিই উপযুক্ত?’’

ঝুয়ানচেন ভাবছিলেন, আরাকামকে এখন রাখা সম্ভব নয়, অন্তত ওর পছন্দের কোনো শ্বেতধারী নাইটকে সহকারী হিসেবে রেখে যেতে হবে।

আরাকাম একদম না ভেবে বলল, ‘‘আছে একজন, নাম গুস ডেল, খুবই পরিশ্রমী ছেলে।’’

‘‘তাকে ডেকে আনো, একটু কথা বলব।’’

আরাকাম ডাকতে যাচ্ছিলেন, তখনই আফু খানিকটা আগ বাড়িয়ে হলঘর ছেড়ে ছুটে গেলেন। এস্টেটে শ্বেতধারী নাইটদের থাকার জায়গা আছে, ছোট দুর্গের পাশেই, ওরা রাত পাহারার দায়িত্বে থাকে।

কিছুক্ষণ পর আফু গুসকে নিয়ে এলেন। ছেলেটির গায়ে ঝুয়ানচেনের অর্ডারে বানানো স্যুট, মাথায় হালকা সোনালি চুল, তার মধ্যে যেন ব্রিটিশ ভদ্রলোকের এক চেহারা ফুটে উঠেছে, দেখে মনে হয় সে জন্মগতভাবেই অভিজাত।

‘‘ঝুয়ানচেন স্যার,’’ গুস হাসিমুখে সম্ভাষণ করল, স্বভাবসুলভ ঘনিষ্ঠতায়।

ঝুয়ানচেন এমন অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা পছন্দ করেন না, সংক্ষেপে উত্তর দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘তুমি কীতে পারদর্শী?’’

গুস খানিকক্ষণ ভেবে বলল, ‘‘স্যার, আমি ভালো ঘোড়ায় চড়ি।’’

‘‘এটা তো খুব সাধারণ, একটু ভিন্ন কিছু নেই?’’ ঝুয়ানচেন সবসময় বিশেষ কিছু মনে রাখেন, খুব সাধারণ কিছু তিনি মনে রাখেন না।

গুস আসলে বলতে চেয়েছিল সে প্রচুর মদ খেতে পারে, কিন্তু ঝুয়ানচেনের স্বভাব ও সাম্প্রতিক লোক বাছাইয়ের কৌশল দেখে বুঝেছিল—তিনি একেবারে বাস্তববাদী, এমন কোনো সাধারণ বা একমাত্রিক গুণ থাকলে এই সুযোগ হাতছাড়া হবে।

কয়েকদিন আগেও গুস ঝুয়ানচেনকে তেমন গুরুত্ব দিত না, কিন্তু এই কয়েকদিনেই তাঁর কাজকর্ম গুসকে মুগ্ধ করেছে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনাতেও আকৃষ্ট করেছে।

গুস এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না।

‘‘আমি দলে প্রায়ই গোয়েন্দার কাজ করেছি, বনের মধ্যে অনুসন্ধানে অভিজ্ঞতা আছে, ছাপ খোঁজার বিষয়ে কিছুটা দক্ষ।’’

ঝুয়ানচেন চিবুক চেপে ছেলেটিকে পর্যবেক্ষণ করলেন—ছেলেটি যথেষ্ট চটপটে, তার স্বভাবও গোয়েন্দা চরিত্রের সঙ্গে মানানসই।

‘‘খুব ভালো, এই সময়টা তুমি আমার সাথে থাকবে, আমার নিকটবর্তী নাইট হবে কেমন?’’

ঝুয়ানচেনের এখন কোনো উপাধি নেই, তাই নাইট উপাধি প্রদান করতে পারেন না; অন্তত ব্যারন হলে তবেই সে অধিকার পাবেন। ব্যারনের কোটায় কেবল একজন, আর সেটা হবে যখন তিনি সীমান্তপ্রভু হবেন।

গুস সঙ্গে সঙ্গে সাড়া না দিয়ে আরাকামের দিকে তাকাল, যেন নিজের ক্যাপ্টেনের অনুমতি চায়।

আরাকাম শ্বেতধারী নাইটদের মধ্যে বেশ মর্যাদাসম্পন্ন, আবার প্রশিক্ষকও বটে; যদিও এখন ডিউক গার্ড নাইটের কাজে ব্যস্ত, শিষ্য নেন না, তবুও অনেকের কাছে তিনি গুরুতুল্য।

‘‘তোমার জীবন তোমারই সিদ্ধান্ত, আমার অনুমতি নিতে হবে না,’’ আরাকাম বলল। সে কখনোই দলের সদস্যদের জীবন ঠিক করে দেয় না, ওরা নিজেরাই বেছে নেয়।

গুস বুঝল, আরাকাম এতে সম্মতি দিচ্ছেন। সে সঙ্গে সঙ্গে এক হাঁটু মুড়ে, বাম হাত বুকের ওপর রেখে মাথা নিচু করে নাইটের অভিবাদন করল, ‘‘গুস ডেল আপনার নিকটবর্তী নাইট হতে রাজি, আমি...’’

‘‘ওঠো, আমার তো কোনো উপাধি নেই, এ সব ভণিতা আমার ভালো লাগে না,’’ ঝুয়ানচেন হাত তুলে দাঁড়াতে বললেন এবং বললেন, ‘‘আমি সবসময় মনে করি, সঠিক পুরস্কার ও শাস্তি থাকলে লোকেরা বাধ্য হয়ে মান্য করবে। তুমি মন দিয়ে কাজ করলে কখনো ঠকবে না।’’

গুস উঠে দাঁড়াল, কৃতজ্ঞতা জানাল, ‘‘আপনার আস্থার জন্য ধন্যবাদ, স্যার।’’

ঝুয়ানচেন সংক্ষেপে উত্তর দিলেন, তাকে পাশে অপেক্ষা করতে বললেন এবং আরাকামের দিকে ফিরে বললেন, ‘‘আরাকাম, এই ডিউক ভবনে তুমি আমাকে বড় হতে দেখেছ, সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করি তোমাকেই।’’

আরাকাম চোখ তুলে মৃদু হাসলেন, ‘‘ঝুয়ানচেন স্যার, কিছু বলার থাকলে সোজাসুজি বলো, এভাবে আমার প্রতি বিশ্বাসের কথা বলে ভণিতা কোরো না।’’

‘‘কিছুটা ভূমিকা দিতেই হয়,’’ ঝুয়ানচেন চোখ ঘুরিয়ে একটা সিগার ধরিয়ে ধীরে ধীরে বললেন, ‘‘এডওয়ার্ড একটু আগে বলল, তোমাকে শীঘ্রই ব্ল্যাকস্টোন নগরে কিছু দায়িত্বে পাঠানো হবে, তখন আমার জন্য কিছু কাজ করে দিও।’’

আরাকাম সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলেন না, কারণ ঝুয়ানচেন মানুষকে অনেক সময় মানুষ হিসাবে দেখেন না, নিজেকেও না, পুরোপুরি গবাদিপশুর মতো ব্যবহার করেন; ওর কাজে ধরলে মরেই যেতে হয়।

ডিউকের গার্ড নাইট হওয়ার পর আরাকামের জীবন স্রেফ নাইটের আদর্শে উন্নতি, অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই, ঝামেলা পছন্দ করেন না।

ঝুয়ানচেন ওর মুখে দ্বিধার ছাপ দেখে বললেন, ‘‘কঠিন কিছু নয়, শুধু তুমি যাওয়ার পথে দক্ষিণের অভিজাতদের সঙ্গে সম্পর্ক গুছিয়ে নিও, বিভিন্ন স্বার্থের চ্যানেল দেখে নিও, পারলে ব্ল্যাকস্টোনে একটা ব্যবহারযোগ্য মিলিশিয়া গড়ে দিও। কীভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, আমি লিখে দেবো।’’

শুনতে কঠিন নয়, মিলিশিয়ার প্রশিক্ষণও নিজে না দিলেও চলে, সঙ্গে থাকা শ্বেতধারী নাইটদের দিয়ে করতে পারবে।

আরাকাম একটু ভেবে বললেন, ‘‘শুধু এই কয়েকটি কাজ হলে আমি রাজি।’’

ঝুয়ানচেন হাসলেন, ‘‘এখন শুধু এই কয়েকটি কাজ, চিন্তা কোরো না, তোমাকে কখনো বিপদে ফেলব না।’’

‘‘আর কোনো কাজ না থাকলে, আমি তাহলে ফিরে যাই?’’ আরাকাম ভেবেছিল, শহর ছাড়ার আগে কিছু প্রস্তুতি নেবে।

ঝুয়ানচেন উঠে ওকে থামালেন, ‘‘এত তাড়া কিসের? এসেছো যখন, আমার কাছে কিছু প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা লেখা বাকি, ওগুলোও একটু কপি করে দাও।’’

‘‘গুস, এবার তোমার পরীক্ষা, মনোযোগ দিয়ে কাজ করো!’’

আরাকাম গুসের কাঁধে হাত রেখে ঘুরে বেরিয়ে গেলেন, পা দ্রুততর হলো, দরজা পেরিয়েই দৌড়ে চলে গেলেন, যেন একটু দেরি হলেই ঝুয়ানচেন আবার ডাকবেন।

ঝুয়ানচেন মাথা চুলকে বললেন, ‘‘উফ, আরাকাম লোকটা একদমই উচ্চাকাঙ্ক্ষী নয়। আফু!’’

আফু এগিয়ে এলেন, ‘‘স্যার, আমি আছি।’’

‘‘এডওয়ার্ড স্যারের কাছে গিয়ে ম্যাগিক ইন্ডাস্ট্রি কমিটির তথ্য, ব্ল্যাকস্টোন নগর আর দক্ষিণাঞ্চলের খোঁজখবর, আর একটা মানচিত্র নিয়ে এসো।’’