প্রথম খণ্ড: পথবাতির গডফাদার তেইশতম অধ্যায়: শিলাভেদক কংসদাড়ি

প্রথম ডিউক ভুনা গাধার মাংস 2589শব্দ 2026-03-04 14:10:31

庄সেন সংবাদপত্রের মতো গণমাধ্যম শিল্প সম্পর্কে খুব বেশি জানতেন না, তবে আধুনিক তথ্যের প্রবল স্রোত তাঁর জীবনে এসেছিল, এবং তিনি প্যাকেজিং ডিজাইনসহ নানা বাণিজ্যিক কৌশল সম্পর্কে অবগত ছিলেন। একটি মৃতপ্রায় সংবাদপত্রকে নতুন প্রাণ দিতে হলে, সেখানে নবীন শক্তি সঞ্চার করতে হবে এবং জনপ্রিয়তা বাড়াতে হবে। চাহিদা সৃষ্টি করা—এটি প্রত্যেক ব্যবসায়ীর অপরিহার্য দক্ষতা। বহু বছর ধরে সংগঠনের কাজে যুক্ত থেকে, চাহিদা সৃষ্টির কৌশল তাঁর নখদর্পণে ছিল।

ওয়েন এক আদর্শবাদী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী নতুন যুগের সাম্রাজ্যের নাগরিক। সে স্বপ্ন দেখে, তার ‘রাইন ডেইলি’ সংবাদপত্রকে বিকশিত করে ক্যালিয়া সাম্রাজ্যের ইতিহাসে, এমনকি সমগ্র মহাদেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখতে। রবার্ট সাধারণত ওয়েনকে বস্তুগত কিংবা ক্ষমতাগত সহায়তা দিয়েছে, কিন্তু মানসিক চাহিদা অপূর্ণ থেকেছে ওয়েনের। একজন মানুষের পেট ভরা থাকলে সে তখন মানসিক তৃপ্তি খোঁজে, আর এখন, এই অভূতপূর্ব তৃপ্তি তাকে দিলো জুয়ানসেন।

ওয়েনের মনোভাব আমূল পাল্টে গেল; সে এমনকি নির্লজ্জের মতো জুয়ানসেনকে ধরতে চাইল, যেন সে তার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করে দেয়। ওয়েনের এমন অবস্থা দেখে জুয়ানসেন বিরক্ত হয়ে উঠল, মনে মনে বলল, এই যুগের অভিজাতরা সবাই কেমন যেন! যত ভাবছে ততই অস্বস্তি লাগছে। সে এক লাথিতে ওয়েনকে দূরে ঠেলে দিল, বলল, ‘‘ফিরে গিয়ে একটা চুক্তিপত্র তৈরি করো, আমি বেশি কিছু চাই না, ‘রাইন ডেইলি’ আমরা তিন-সাত ভাগে ভাগ করে নেব।’’

‘‘আপনি মাত্র তিন ভাগ চান?’’ ওয়েন মেঝেতে শুয়ে মাথা তুলল, অবিশ্বাস্যে ভরা মুখ।

জুয়ানসেন চেয়েছিল একেবারে গুলি করে তাকে শেষ করে দিতে, ‘‘আমি চাই সাত ভাগ, এখনই বেরিয়ে যাও!’’

ওয়েন হাত-পা ছুঁড়ে মেঝে থেকে উঠে, দৌড়ে বার থেকে বেরিয়ে গেল।

‘‘কেলিকে ডেকে আনো, আমার মেজাজ এখন খুব খারাপ।’’

জুয়ানসেন নিজের জামার বোতাম খুলে একটু হালকা হল।

আফু সাড়া দিয়ে বেরিয়ে গেল মানুষ খুঁজতে। সে ভাবছিল, ইদানীং জুয়ানসেনের এত কাজ, তার নিজের সহায়তায়ও সামলানো মুশকিল, মনে হচ্ছে কোনো একজন ম্যানেজার বা সহকারী লাগবেই।

বেরিয়ে এসে, যখনি আফু কোনো সদস্য খুঁজবে ভেবেছিল, তখনই সে দেখল, জেসন একজন মজবুত, দাড়িওয়ালা বামনকে নিয়ে এগিয়ে আসছে।

আফু এক নজরে বামনটির দিকে তাকাল, মুখের ভাব বদলে গেল। এই বামনের দাড়ি পিতল রঙের, অর্থাৎ সে এক অভিজাত, পাহাড়ি রাজ্যের কপার দাড়ি বংশের সদস্য।

সম্ভবত এই বামন অভিজাত হচ্ছে রাজমিস্ত্রি সংঘের প্রতিনিধি।

জুয়ানসেনের মেজাজ মনে পড়তেই আফু তাড়াতাড়ি এগিয়ে গেল, জেসনের কানে কানে বলল, ‘‘তুমি কাউকে পাঠিয়ে কেলিকে ডেকে আনো, মালিকের মেজাজ এখন ভালো না।’’

‘‘আমি রাজমিস্ত্রি সংঘের সহ-সভাপতিকে নিয়ে এসেছি, নাম ফাটাদার কপারদাড়ি,’’ জেসন চুপিসারে আফুকে জানিয়ে দিল।

আফু মাথা নাড়ল, ‘‘এটা আমার ওপর ছেড়ে দাও, তুমি তোমার কাজে যাও।’’

জেসন মাথা নাড়ল, শুনে জুয়ানসেনের মেজাজ খারাপ, সে আর ভেতরে ঢুকল না, শুধু বামনটিকে বারমুখো নিয়ে এসে পরিচয় করিয়ে দিল, ‘‘ফাটাদার মহাশয়, তিনি জুয়ানসেন স্যারের ম্যানেজার, আফু হিউস্টন। তিনি আপনাকে নিয়ে যাবেন। আমি অন্য কাজে ব্যস্ত, দুঃখিত, আগে যেতে হচ্ছে।’’

‘‘চলো, আমি তোমাদের অভিজাতদের বোকা ভদ্রতা সহ্য করতে পারি না!’’

বামনটি গর্জে উঠল, দাড়ি ঝাঁকিয়ে রেগে গেল।

আফু বামনকে নিয়ে বারে ঢুকল। তখন জুয়ানসেন কাউন্টারে পানীয় মিশাচ্ছিল, ভাবছিল এখানে গমের মদ খুবই হালকা, একটু ঘন করলে কেমন হয় দেখা যাক। যদি না হয়, তবে হয়তো কারখানায় গিয়ে ঘনত্ব বাড়ানোর উপায় খুঁজতে হবে।

‘‘স্যার, রাজমিস্ত্রি সংঘের সহ-সভাপতি ফাটাদার কপারদাড়ি এসেছেন।’’

আফু ফাটাদারকে কাউন্টারে বসিয়ে পরোক্ষভাবে তার অভিজাত পরিচয় নিয়ে সাবধান করতে চেয়েছিল জুয়ানসেনকে।

অমানবীয় জাতির অভিজাতদের সঙ্গে মানব অভিজাতদের পার্থক্য হচ্ছে, ওরা অত্যন্ত ঐক্যবদ্ধ, একজন আহত হলে গোটা জাতি সাহায্য করতে আসে।

আফু সত্যিই চিন্তিত ছিল জুয়ানসেনের মানসিক অবস্থা নিয়ে।

জুয়ানসেন কাউন্টারে বসা বামনটিকে দেখে বিস্ময়ে বলল, “তোমার দাড়ি এত সুন্দর করে কেমন করে সাজানো হয়েছে? এই দাড়ির মধ্যে রুক্ষতার মাঝেও যেন কোমলতা আছে, যেন এক পেয়ালা মদে বরফ মিশেছে, একেবারে নিখুঁত!”

ফাটাদার মনে মনে প্রচণ্ড রাগ নিয়ে এসেছিল, রাজধানীতে কয়েক শতাব্দী ধরে থেকেও এমন অপমানিত হয়নি। ভাবছিল, এই জুয়ানসেন কেমন লোক, যে তাকে জোর করে দেখা করতে বাধ্য করেছে।

কিন্তু জুয়ানসেনের প্রশংসা শুনে তার সব রাগ মুহূর্তে নিভে গেল।

সে মনে মনে বলল, সে আমার দাড়ি প্রশংসা করেছে, নিশ্চয়ই ভালো মানুষ।

ফাটাদার গর্বে দাড়ি চুলকে মাথা উঁচু করে বলল, ‘‘অবশ্যই, আমার দাড়ি প্রতিদিন যত্ন নেই, সবচেয়ে ভালো দাড়ির ক্রিম ব্যবহার করি!’’

আফু ফাটাদারের আচমকা বদলে যাওয়া ভাব দেখে বিস্ময়ে তাকাল জুয়ানসেনের দিকে, ভাবল, স্যার তো এমন প্রশংসা করতে জানতেন না, আর এত নিখুঁতভাবে বললেন?

‘‘তাহলে, কোথায় পাওয়া যায় এটা?’’ জুয়ানসেনের মনে নতুন ব্যবসায়িক পরিকল্পনার চিন্তা এল। এই জগতে চুলের যত্ন ও স্নান সামগ্রী খুবই দুর্বল। যদি সে বামনদের দাড়ির ক্রিমের ফর্মুলা পায়, চুলের কন্ডিশনার তৈরি করে, ক্যালিয়ার অভিজাত মহিলারা তো হুমড়ি খেয়ে কিনবে!

ফাটাদার শুনে, সে তার দাড়ির ক্রিম জানতে চাইছে, সঙ্গে সঙ্গে বলল, ‘‘এটা বামনদের গোপন রেসিপি! তোমার তো দাড়িই নেই, এসব জানার দরকার কী!’’

জুয়ানসেন পানীয়ের গ্লাস নামিয়ে নিজের চুলের দিকে ইশারা করল, মুখে দুঃখের ছাপ, ‘‘আমার চুল তো ভেঙে যাচ্ছে। ফাটাদার মহাশয়, আপনার দাড়ির ক্রিম যদি চুলে মাখা যায়, তবে চুল আরও মসৃণ ও কোমল হবে না?’’

‘‘তোমার চিন্তাটা খারাপ না, কিন্তু দাড়ির ক্রিমের রেসিপি বামনদের অমূল্য সম্পদ, তোমার আশা বৃথা।’’

ফাটাদারের গলা রুক্ষ, বলার ভঙ্গি কটু, সাধারণ মানুষ হলে ঝগড়া শুরু করত, কিন্তু জুয়ানসেন বহু বামনদের গল্প পড়েছে, যেমন ‘প্রভুদের আংটি’র মতো, তাই বামনদের সম্পর্কে তার ধারণা ভালো।

ফাটাদারের কড়া গলা নিয়ে সে কিছু মনে করল না, বরং স্বাভাবিকই মনে হলো।

সে এক গ্লাস নতুন মদ বামনের দিকে এগিয়ে বলল, ‘‘এই পানীয়টা নতুন তৈরি, এখনো নাম দিইনি, একটু চেখে দেখবেন?’’

‘‘অবশ্যই! পানীয় চেনার ক্ষেত্রে বামনের সমান কেউ নেই!’’

ফাটাদার গ্লাস তুলে এক ঢোকেই শেষ করল, একেবারে পরখ করার কোনো ভানও করল না।

ঠাস—

ফাটাদার গ্লাসটা কাউন্টারে রেখে গভীর শ্বাস নিল, ‘‘হাহাহা, চমৎকার! এই পানীয়ের নাম কী? আরেক গ্লাস দিন!’’

জুয়ানসেন অবাক হয়ে ভাবল, এইভাবে বানানো মদ এত ভালো লাগল? তবে এখানে পানীয় সংস্কৃতি বোধহয় খুব উন্নত নয়।

‘‘এর নাম রাখলাম ফাটাদার।’’

ফাটাদার শুনে দাড়ি নেড়ে খুশিতে বলল, ‘‘মজার মানব অভিজাত, কী কাজ চাও? তোমাকে আমার অপছন্দ নয়, সাহায্য করতে পারি, তবে এই পানীয়ের রেসিপি জানতে চাই।’’

‘‘সমৃদ্ধ গমের মদ মূল উপাদান, তার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের চার ধরণের জলদস্যু ডগ, ফসলের সিরাপ ও লেবু মিশিয়েছি। বিস্তারিত উপাদান আমি লিখে দেব।’’

জুয়ানসেন সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বারে পানীয় প্রস্তুতকারক ছিল, পানীয় নিয়ে কিছুটা ধারণা ছিল।

বামন মুখে বাকি থাকা স্বাদ নিয়ে বলল, ‘‘তবে শক্তি কম, আমার আনা বামনদের মদ দিয়ে একবার ট্রাই করো।’’

‘‘সে তো দারুণ হবে! আফু, ফাটাদার মহাশয়কে আমাদের বারের আজীবন সদস্য করো, তিনি যখনই মদ্যপান করতে আসবেন, কোনো টাকা লাগবে না!’’

জুয়ানসেন এক কথায় নির্দেশ দিল। এমন ছোট ব্যাপারটাও জোরে বলতে হয়, যাতে বামনের সম্মান থাকে।

ফাটাদার অত্যন্ত খুশি হল, সে বহুদিন পর এমন মজার মানব দেখল।