সপ্তমাশি অধ্যায়: অট্টালিকার রাতের বিভীষিকা

আমি যেসব বছর অন্ধকার জগতের কর্মকর্তা ছিলাম উ বানসিয়ান 3211শব্দ 2026-03-20 06:37:34

যদিও অনেক উঁচু ভবনে চৌদ্দতলা বাদ দেওয়ার রীতি আছে, আমাদের এই দালানটি যে সত্যিই চৌদ্দতলা, সে বিষয়ে আমার একটুও সন্দেহ ছিল না। তবু আমি আবার পনেরোতলা থেকে নিচে নামলাম। এ বার আমি মনোযোগ দিলাম, আর তাতেই গড়বড়টা টের পেলাম। সাধারণ নিয়মে, দুই তলার মাঝে থাকে মাত্র দুই দফা সিঁড়ি আর একটি বাঁক। কিন্তু পনেরোতলা থেকে তেরোতলায় নামতে গিয়ে দেখলাম, আমি টানা চার দফা সিঁড়ি আর দুইটি বাঁক পার হয়েছি। তখনই বুঝলাম, আগে শুধু মাথা নিচু করে উঠে যাচ্ছিলাম, এই সূক্ষ্ম ব্যাপারটা খেয়ালই করিনি, আর অযত্নেই ফাঁদে পড়ে গিয়েছি।

আমি আবার দুই তলার মাঝখানে ফিরে গিয়ে সেই কালোচিক্কণ দেওয়ালের দিকে তাকালাম। অত মাথা ঘামালাম না, জোরে পা তুলে সপাটে লাথি মারলাম। সত্যিই, ধপাস করে দেওয়ালটা খুলে গেল। ভালো করে তাকিয়ে দেখি, সেটা কোনো দেওয়ালই নয়, আসলে একটা দরজা। দরজার ফাঁক দিয়ে ম্লান চাঁদের আলো এসে বিপরীত দেওয়ালে পড়েছে, আর সেখানে লেখা আছে বড় দুটো অক্ষর—চৌদ্দ।

আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম, আবার একই সঙ্গে ভীষণ সতর্কও হয়ে উঠলাম। মনে হচ্ছে এই বাড়ির ভেতরে সত্যিই কিছু গোলমাল আছে, আর এই চৈত্রিশিরা রাতও সাধারণ নয়; আমার চোখকেও ফাঁকি দিতে পেরেছে। আজ রাতে আরও সাবধানে থাকতে হবে।

অন্ধকারের মধ্যে আমি পা টিপে টিপে কোম্পানির করিডরে ঢুকলাম। তখন মধ্যরাতের একটু পর। চৌদ্দতলা এই উঁচু দালানে নীরবতা এতটাই ভয়ংকর যে গা ছমছম করছিল। ভাগ্যিস আজ পূর্ণিমা; কোথা থেকে না-জানা এক চাঁদের আলো এসে সাদা দেয়ালে পড়ে কফি-ফ্যাকাশে দীপ্তি ছড়াচ্ছে। নিস্তব্ধতার মধ্যে আমি শ্বাসও ফেলতে ভয় পাচ্ছিলাম; মনে হচ্ছিল, প্রতিটি পদক্ষেপ যেন সোজা আমার বুকের ওপর পড়ছে।

আমি কোমর নিচু করে, পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে একটি ঘর পেরোলাম—ব্যবসা বিভাগ এক। তার সামনে ব্যবসা বিভাগ দুই। সেই হান ম্যাডামের অফিস করিডরের একেবারে ভেতরের কোণায়, এখনও অনেকটা পথ বাকি। জানি না কেন, দিনের বেলায় যে করিডর খুব বেশি লম্বা মনে হয়নি, রাতের এই অন্ধকারে প্রতিটি ঘর পেরোতেই বুকটা মোচড়াতে লাগল। এখানে কী লুকিয়ে আছে, কোথায় আছে—কিছুই জানি না। এই অজানা আশঙ্কা সত্যিই অসহ্য। ইচ্ছে করছিল, সঙ্গে সঙ্গে যদি কোনো ভূত-প্রেত বেরিয়ে আসে, তবে খোলা লড়াই করেই শেষ করি; এই টুকরো টুকরো, ছেঁড়া ছেঁড়া ভয়ের অনুভূতি একে একে আছড়ে পড়ে ভীষণ যন্ত্রণা দিচ্ছিল।

এক পা, দুই পা—একটার পর একটা ঘর পেরোতে লাগলাম। সামনে করিডরের বাঁক, সেখানে মৃদু আলো আরও ম্রিয়মাণ হয়ে এল, আর সামনের দিকটা ঘোর অন্ধকার। নার্ভ এত টানটান ছিল যে যেন কেবল নিজের শ্বাসের শব্দই শুনতে পাচ্ছিলাম। আবার মনে হল, পেছন দিক থেকে টিকটিক, টিকটিক করে কোনো আওয়াজ আসছে। শরীরের লোম খাড়া হয়ে উঠল। অজান্তে পিছন ফিরে চারদিকে তাকালাম, কিন্তু কিছুই নেই। পেছনে তখনও সেই দীর্ঘ কালো করিডর, আর ফ্যাকাশে দেয়াল।

আমি অনিচ্ছায় ঢোক গিললাম, নিজেকে সামলে নিয়ে আস্তে কেশে সাহস সঞ্চয় করলাম। কিন্তু অন্ধকার ও নীরব সেই করিডরে আমার নিজের শব্দই কেমন অদ্ভুত, কর্কশ শোনাল—উল্টে আমিই চমকে উঠলাম। ঘুরে দাঁড়িয়ে অন্ধকারে হাতড়ে কিছু খুঁজতে গিয়েই হঠাৎ মনে হল, যেন কিছু একটা ছুঁয়ে ফেলেছি। সঙ্গে সঙ্গে বুকটা ধক করে উঠল। তাড়াতাড়ি দু’পা পিছিয়ে মাথা তুলে তাকালাম। দেখলাম, সামনের করিডরের বাঁকে স্পষ্টই একটা মানুষের ছায়া দাঁড়িয়ে আছে। একটু আগে অনিচ্ছায় তার গায়েই হাত লেগেছিল।

চোখ ভালো করে মেললাম। লোকটি নয়—কৃষ্ণবর্ণ পোশাক, লম্বা প্যান্ট, ছিমছাম ছোট চুল। অন্ধকারে একটুও নড়ছে না। এ তো সেই বুড়ি, যার খোঁজে আমি এসেছি—হান ম্যাডাম।

এখনও কিছু হয়নি দেখে মনে মনে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক খাপ খাচ্ছে না। আমাকে দেখেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই কেন? এ তো তার স্বভাবই নয়। রাত তো অনেক হয়েছে; নিয়মমতো আমাকে দেখেই তার চিৎকার চেঁচামেচি করার কথা, না হয় গালমন্দে আকাশ কাঁপিয়ে দেওয়ার কথা। বুকটা কেঁপে উঠল। আমি আরও মন দিয়ে দেখলাম। সে এখনও সেই জায়গাতেই স্থির দাঁড়িয়ে, পাথরের মতো নিষ্প্রাণ মুখে আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। আর ঠিক তখনই, খারাপ কিছুর আভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই, তার মাথার পেছনের পাশ থেকে আস্তে আস্তে একটি ছোট্ট মাথা বেরিয়ে এল। পুতুল-শূন্য চোখে সেটি আমার দিকেই তাকিয়ে রইল, তারপর ধীরে ধীরে মুখ বড় করে এক দুষ্ট হাসি হাসল। পরমুহূর্তেই হান ম্যাডামের ঘাড়ে সজোরে কামড় বসাল!

আমি যা ভেবেছিলাম, তার কিছুই হল না। রক্ত ছিটকে পড়ল না, আর্তচিৎকারও শোনা গেল না। হান ম্যাডাম তখনও সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল, যেন এক জড় দেহ, এক চলমান লাশ। ছোট ভূতটা তার ঘাড়ে অবিরাম চুষতে লাগল, আর তার ত্বক ধীরে ধীরে রক্তহীন, ফ্যাকাসে সাদা হয়ে উঠল।

অবশেষে আমি নিজেকে সামলে নিলাম। চিৎকার করে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। হাতের তালু থেকে সরু সরু কালো ধোঁয়া বেরিয়ে এল, আমি সোজা সেই ছোট ভূতটার মাথা লক্ষ করে ধরতে গেলাম। প্রায় ধরে ফেলব এমন সময়, সে হঠাৎ কামড়ানোর কাজ থামিয়ে দিল। মাথা তুলে আমার দিকে তাকাল। তখন তার আসল চেহারাটা ফুটে উঠল। সেটা এক সুন্দর চেহারার কিশোরের মুখ, কাতর ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, চোখের কোণে যেন জল চিকচিক করছে। তাকে পরিষ্কার দেখতেই আমি চমকে উঠলাম। এ বাচ্চাটাকে আমি আগে দেখেছি—এ যে সেই ছেলে, যে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বাবার গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছিল!

অজান্তেই আমার হাতের গতি কমে গেল। আর সেই মুহূর্তেই ছোট ভূতটা সরে গেল, হান ম্যাডামের পেছনে আবার মিলিয়ে গেল। পরমুহূর্তে হান ম্যাডাম হঠাৎ কাঁপতে শুরু করল। চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠল। তারপর দুই হাতে মাথা চেপে ধরে পাগলের মতো আমার পাশ দিয়ে ছুটে চলে গেল।

তার এই হঠাৎ আচরণে আমি চমকে উঠলাম। তখনই দেখলাম, সে অনেক দূরে সরে গেছে। কয়েকবার দিক বদলে ঝাপিয়ে পড়তেই অন্ধকারে সে মিলিয়ে গেল।

আমি তাড়াতাড়ি পিছু নিলাম। শালা ছোট ভূত, অবশেষে দেখা দিলে তো! এতক্ষণ কোথায় ছিলি, কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলাম না—তাহলে এতক্ষণ এখানেই লুকিয়ে ছিলি। আগে হয়তো সাহায্যই করতে চাইতাম, কিন্তু এখন যখন তুই মানুষ মারতে উঠেপড়ে লেগেছিস, তখন তোকে আর রেহাই দেওয়া চলে না।

দৌড়ে সিঁড়িঘরে পৌঁছতেই দেখলাম, নীচে একটা কালো ছায়া এক ঝলক দেখা দিয়ে আবার উধাও। মনে হল, সে নীচে নামছে। আমি আর দেরি করলাম না। পিছু নিতেই থাকলাম। দেখি, কত দূর পালাস।

নিঃসঙ্গ করিডরে শুধু আমার তাড়াহুড়ো করা পায়ের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সামনে যে ছায়াটা, সেটা স্পষ্টই হান ম্যাডাম, অথচ একটুও শব্দ করছে না। শরীরটা অদ্ভুত হালকা—একটা বনবিড়ালের মতো, কিংবা একটুখানি ভ্রাম্যমান আত্মার মতো।

কতবার যে বাঁক নিলাম, কত তলার সিঁড়ি যে পার হলাম, হিসেব নেই। আমার চোখে তখন শুধু সামনের সেই কালো ছায়া, আর মনে একটিই ভাবনা—ধরে ফেলতে হবে। কিন্তু অনেক দূর তাড়া করার পর অন্তঃপ্রেরণা বলে উঠল, এতক্ষণে নিশ্চয়ই নিচতলায় পৌঁছে গেছি। অথচ এখনও দৌড়াচ্ছি কেন? সামনে করিডর আরও অন্ধকার হয়ে উঠছে, আর সেই জরুরি বাতিগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।

আমি অনিচ্ছায় চারপাশে তাকালাম, আর তখনই শিরদাঁড়া হিম করে দেওয়া এক দৃশ্য দেখলাম। চোখের সামনে যা আছে, তা আর আগের সিঁড়িঘর নয়। আমি একটু দোনামোনা করতেই সামনে সেই কালো ছায়াটা একরাশ পাতলা ধোঁয়ার মতো শুধু একবার উঁকি দিয়ে পুরোপুরি অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। যতই চোখ কচলাই, আর দেখতে পেলাম না।

আমি আক্ষেপে দাঁত কিড়মিড় করে বারবার পা ঠুকলাম। কিন্তু যেহেতু আর ধরা যাচ্ছে না, তাই অন্তত পরিস্থিতিটা ভালো করে দেখা যাক। অথচ কেন জানি না, আমি থামতেই চারপাশ যেন আরও অন্ধকার হয়ে গেল। আগেই কালো ছিল করিডর, এখন যেন হাতে ছোঁয়াও যায় না এমন অন্ধকার।

এই কালি-মাখা গভীর অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আমি নিজের অস্তিত্বও যেন টের পাচ্ছিলাম না। এক ধরনের বিভ্রমে মনে হল, আমি শূন্যতার কালো গহ্বরে দাঁড়িয়ে আছি—উপরে, নিচে, ডানে, বামে, চারদিক জুড়ে শুধু অনন্ত অন্ধকার। এমন দৃশ্য আমাকে, যে কিনা ভূতপ্রেতের সঙ্গে বহুবার পাল্লা দিয়েছি, তীব্র ভয়ে আচ্ছন্ন করল। মাথার ত্বক ছমছম করতে লাগল।

সেই মুহূর্তে মস্তিষ্ক যেন একবারের জন্য শূন্য হয়ে গেল। শরীরটাও একটু দুলে উঠল। অজান্তেই পাশে হাত বাড়িয়ে ভর নিতেই হঠাৎ আনন্দে বুক ভরে উঠল—পাশে তো সিঁড়ির হাতল আছে!

সিঁড়ির হাতল থাকলেই হল। তার মানে আমি এখনও করিডরেই আছি। আমি নিজেকে শান্ত করলাম। মনে মনে কিছু না কিছু স্থির করেই ডান হাতটা বাড়ালাম, পুরো মানসিক শক্তি ডান হাতে কেন্দ্রীভূত করলাম। সঙ্গে সঙ্গে টের পেলাম, শক্তির স্রোত ডান হাতের দিকে ধেয়ে আসছে। যদিও কিছুই দেখা যাচ্ছিল না, আমি অনুভব করলাম, কালো আবছা শক্তিটা দ্রুত জমাট বাঁধছে।

অবশেষে আমার হাতের ওপর বেগুনি বর্ণের এক ঝলমলে আভা তৈরি হল। সেই অসীম অন্ধকারে শেষমেশ একটুকরো আলো জ্বলে উঠল। আলো ম্লান, কিন্তু যথেষ্ট।

বেগুনি আলোর ভরসায় দেখলাম, দেয়ালে রক্তমাখা বড় অক্ষরে লেখা: স্বর্গের পথ খোলা, তবু কেউ যায় না; নরকের দরজা নেই, তবু মানুষ আপনিই এসে পড়ে...

এই লেখার ঠিক নিচেই ছিল এক দরজা, অথচ দরজার পাল্লা নেই। অন্ধকারে দেখলে যেন মুখ হাঁ করা এক দানবের মতো, কিংবা অন্তহীন গহ্বর। চোখের দৃষ্টি খাটিয়ে ভেতরে তাকাতে চেষ্টা করলাম। সামনের দিকে যেন ফাঁকা একটি সুড়ঙ্গ, কিন্তু এই অস্বাভাবিক মুহূর্তে সেটাই যেন সত্যিকারের নরকের প্রবেশপথ।

বুকের ভিতর উঠে আসা আতঙ্ক জোর করে চেপে রেখে আমি সেই নরকের দরজায় পা দিলাম। এখন আর কোনো উপায় নেই। পিছু হটার পথ নেই। অগাধ অন্ধকূপেও যখন ঢুকে পড়েছি, আজ তাহলে দেখা যাক এই নরক কেমন।

আমি পা রাখতেই পাশে হঠাৎ দুটো ভুতুড়ে শিখা জ্বলে উঠল। নীলচে জ্যোতিতে সামনের সামান্য পথটুকু আলোকিত হল, আর চারপাশ তখনও অনন্ত অন্ধকার। আমি আরও একটু এগোতেই আবার দুটি শিখা নিঃশব্দে জ্বলে উঠল। পথ আরও স্পষ্ট হল। নিচে তাকিয়ে দেখি, এ তো অস্থিতে গাঁথা এক রাস্তা—সর্বত্র ছড়িয়ে আছে অসংখ্য সাদা হাড়, আর সেগুলো সার বেঁধে সামনে চলে গেছে।

হুঁ, নিছক ভেলকি। আমি মানতে নারাজ যে এ সত্যি নরকের পথ। আর যদি সত্যিই নরকের দিকেই যায়, তবে আজ তো ঠিকই একবার চোখ মেলে দেখব। এই ভাবনা নিয়ে আমি অস্থিরাস্ত ধরে এগিয়ে চললাম। দু’পাশে ভুতুরে আগুন জ্বলতে লাগল। কিছুদূর এসে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি, রাস্তার দুই পাশে অজস্র ভুতুড়ে আলো নীলচে মৃদু জ্যোতি ছড়াচ্ছে, যেন অসংখ্য চোখ আমার দিকেই স্থির তাকিয়ে আছে।

সামনে আবার আধখোলা একটা দরজা দেখা দিল, ফাঁক গলে ক্ষীণ আলো বেরোচ্ছে। পথ যেন এখানেই শেষ। আর সেই দরজার বাইরের পথের ওপরেই কুঁকড়ে পড়ে আছে একজন মানুষ। কাছে গিয়ে দেখি, সে হান ম্যাডাম। মাটির ওপর উপুড় হয়ে অচল হয়ে পড়ে আছে, চোখ খোলা, হাতদুটো সামনে বাড়ানো—যেন গেটটা পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আমি হাত দিয়ে পরীক্ষা করে দেখলাম, শ্বাস এখনও চলছে। তবে বোধহয় মনের ভারসাম্য হারিয়েছে। চোখ ঝাপসা, ঠোঁট আধখোলা, আস্তে আস্তে কীসব বিড়বিড় করছে। দেখে মনে হল, কোনো বিভ্রমের জগতে হারিয়ে গেছে।

আমি উঠে দাঁড়ালাম, গভীর শ্বাস নিলাম, আর তার শরীরটার ওপর দিয়ে আস্তে পা বাড়িয়ে দিলাম। তারপর আধখোলা দরজাটা ঠেলে খুলে দিলাম। সত্য হয়তো এই দরজার ভেতরেই লুকিয়ে আছে।